নিজস্ব প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্দা গ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার একদল সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের এই হামলায় শ্মশান কালী মন্দির ভাঙচুর, মূর্তির অবমাননা, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং তীরবিদ্ধ হয়ে এক যুবক গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাদেরের ছেলে রেজাউল এবং আজগর সাহাজীর ছেলে আজাদের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে ঘোড়াবান্দা গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের শ্মশান কালী মন্দিরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা মন্দিরে থাকা কালীমূর্তিটি উপড়ে ফেলে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এমন ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্দির ভাঙচুরের পর হামলাকারীরা আদিবাসীদের কবরস্থানের জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানকার গাছ কাটতে শুরু করে। স্থানীয় আদিবাসীরা এতে বাধা দিতে গেলে সংঘাতের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা মঙ্গল মুরমুর ছেলে পিউস মুরমুরের বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় পিউস মুরমুর গুরুতর আহত হন।
হামলা চলাকালীন আদিবাসীদের লক্ষ্য করে দেশীয় অস্ত্র ও তীর-ধনুক ব্যবহার করা হয়। এতে গণেশ সরেনের ছেলে বিশ্বনাথ (ভোন্দা) নামের এক আদিবাসী যুবকের বুকে তীর বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান ও সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল আদিবাসীদের পৈত্রিক জমি ও শ্মশান দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিকল্পিত বর্বরতা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত মূল হোতা রেজাউল ও আজাদসহ সকল সন্ত্রাসীর দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
Comments
Previous Articleআ’লীগ আমলের এপিপি পেলেন বিএনপির মনোনয়ন
সংশ্লিষ্ট খবর
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
