নিজস্ব প্রতিনিধি
২৪ শের কথিত জুলাই বিপ্লবের গুপ্ত হামলায় নিহত মানুষের রক্ত আর পঙ্গুত্ববরণকারী হাজারো মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার নেশায় মেতেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশ। আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন না করেই রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ আর ক্ষমতার লোভে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-তে নাম লিখিয়েছেন আহ্বায়ক রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ কতিপয় নেতাকর্মী। নিজেদের এই রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং আর্থিক অনিয়ম ধামাচাপা দিতে তারা ভেঙে দিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এই অপেশাদার ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর হঠকারী সিদ্ধান্তে সংগঠনটিতে চরম অস্থিরতা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।
রোববার দুপুরে রিফাত রশিদ, হাসিব আল ইসলাম ও মুঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। অথচ এর নেপথ্যে কাজ করেছে তাদের রাজনৈতিক দল বদলের এজেন্ডা। এনসিপি-তে যোগদানের পরপরই তারা এই প্ল্যাটফর্মটিকে নিজেদের পকেটে পুরতে ৫ সদস্যের একটি তথাকথিত ‘উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে এই পর্ষদের শীর্ষে রাখা হয়েছে এনসিপি-র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওনকে। যা প্রমাণ করে যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে এখন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংগঠনটির আদর্শ বিচ্যুতি এবং ব্যক্তিস্বার্থের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশাকে নজিরবিহীন অপদস্থ করা হয়েছে। আয়েশা এক বিবৃতিতে এই কমিটি ভেঙে দেওয়া এবং রিফাত-হাসিবদের উচ্চাভিলাষের প্রতিবাদ জানালে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ম্যাসেজ মুছে ফেলেন হাসিব আল ইসলাম। এরপর দাপ্তরিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে রিমুভ করেন শাহাদাত হোসেন। মূলত সত্য প্রকাশ হওয়ার ভয়েই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিনথিয়া জাহীন আয়েশা তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, এই চক্রটি কেবল রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষীই নয়। বরং তারা আর্থিক অনিয়মেও জড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “কারও ব্যক্তিগত চাহিদা বা অভিলাষ পূরণের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের নিহত ও আহতদের পরিবারের অঙ্গীকার ভুলে এই চক্রটি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড খুব দ্রুতই জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে।
সিনথিয়াকে রিমুভ করার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থগিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও সদ্য এনসিপিতে যোগ দেওয়া শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, আয়েশা ‘ঝামেলা’ করছে দেখে তাকে ওপরের নির্দেশে রিমুভ করা হয়েছে। কেন বা কী কারণে রিমুভ করা হয়েছে—তার কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখাতে পারেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ছাত্র সমাজের বড় একটি অংশ মনে করছেন, রিফাত-হাসিব চক্রটি মূলত অপরিণত এবং লোভী। জুলাই বিপ্লবের জনসমর্থনকে পুঁজি করে তারা এখন ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। এই ধরনের ‘সুযোগ সন্ধানী’ চক্র দেশের মানুষের সাথে বেঈমানি করে দেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা রাজনীতিতে পদায়ন করতে চায়, তারা আসলে কথিত সেই জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনারও শত্রু।
জাতির সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—যাদের ওপর ভরসা করে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল, তারা কেন ক্ষমতার সামান্য লোভে এত দ্রুত আদর্শ বিসর্জন দিল? তাহলে কি সত্যিই এই আন্দোলন ছিলো কথিত জঙ্গি হামলা? মানুষের আবেগ, দেশপ্রেম ব্যবহার করা নিজেদের স্বার্থে? জবাবদিহিতা তাদের করতেই হবে।
