নিজস্ব প্রতিনিধি
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিগত সরকার (আওয়ামী লীগ ) শিশুদের হামের টিকা না দিয়ে ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করেছেন, তাকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ ও ‘অসত্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সারাদেশে শিশুদেরকে হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত ইমিডিয়েট দুটি সরকারের জীবনবিনাশী ব্যর্থতা মনে হয় ক্ষমাহীন অপরাধ।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত উভয় সরকারের আমলেই দেশে বড় পরিসরে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে একটি বিশাল ‘হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন’ সম্পন্ন হয়। ওই সময়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছিল। কক্সবাজারকে ‘রেড জোন’ চিহ্নিত করে সেখানেও প্রায় ৮ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া দিনাজপুর ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের নথিপত্র এবং বেসরকারি সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম থেকেও এই টিকাদান অভিযানের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এসময় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, আট বছর আগে হামের টিকা দেওয়া হলেও এরপর আর কোনো সরকার টিকা দেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের একটি অসম্পূর্ণ স্ক্রিনশটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ২০২৫ সালের টিকা কাভারেজ মাত্র ৫৭% দেখানো হয়।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ নিশ্চিত করেছেন যে, ওই তথ্যটি অসম্পূর্ণ ছিল। প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯২ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের কাভারেজ ছিল ৯০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ অফিসও এই তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করেছে।
ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য যাচাই না করে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিগত সরকারগুলোর আমলে ৯০ শতাংশের বেশি কাভারেজ অর্জিত হয়েছে, সেখানে ‘টিকা দেওয়া হয়নি’ বলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন অনেকে।
