নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান নীতি ও কার্যক্রমের ওপর অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি দল ও বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ফেসবুক পোস্টে শেখ শোভন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্ন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের চেতনা আজ উপেক্ষিত এবং সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ ন্যায্য মর্যাদা পায়নি। তাঁর মতে, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়া’ আজ রাষ্ট্রকে গ্রাস করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ছিল গণমানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই, কিন্তু বর্তমানে দলের (বিএনপি) কপটতা ও দুর্বল অবস্থানের কারণে আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে তাঁর পক্ষে আর এই পথে চলা সম্ভব নয়।
শোভন তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “স্মরণ রাখা আবশ্যক রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র।” তিনি দাবি করেন, দলের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব তাঁর কাছে বড়। নিপীড়িত দেশনেত্রী বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকলেও বর্তমান নেতৃত্বের নীতিগত বিচ্যুতি তাঁকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। অন্যায়ের সামনে নতজানু না হয়ে প্রয়োজনে পুনরায় দেশমাতৃকার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের একজন সক্রিয় নেতার এমন কঠোর ভাষায় পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূলের এক অংশের অসন্তোষই এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
