নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের সংকট এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আটজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) লন্ডনের হাউস অব কমন্সের ১৯ নম্বর কমিটি রুমে ‘বাংলাদেশী ডায়াসপোরা ইন ইউকে’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তাঁরা এই উদ্বেগ জানান। সভায় ব্রিটিশ এমপিরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হারটলিপুলের লেবার দলীয় এমপি জনাথন ব্রাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন লেবার দলের সাবেক নেতা জেরেমি করবিনসহ রিচার্ড বারজন, জাস আথওয়াল, ক্রেস্টিন জারডাইন, গ্রাহাম মরিস, অলিভার রায়ান ও হেনরি টাফনেল।
ব্রিটিশ এমপিরা স্পষ্টভাবে বলেন, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সকল দল ও মতের মানুষের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধের জোরালো আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ এমপিদের মতে, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ; তাই তাঁদের গ্রেফতার বা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদকর্মীদের ভয়হীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. হাবিবে মিল্লাত।
সভায় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার এস এম রেজাউল করিম, আবদুর রহমান, শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত তৈরিতে প্রবাসীদের এই উদ্যোগের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
