নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানীর চারুকলায় নাম পরিবর্তনের বিতর্কের মাঝেও নিজস্ব ঐতিহ্যে অটল থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে উদযাপিত হলো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা ১৪৩৩’। ‘মঙ্গল আছে, মঙ্গল থাকবে’ এই দৃপ্ত স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকালে এই বর্ণিল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের সূচনা হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। এরপর ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডির প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শুরুর স্থানে এসে শেষ হয়। আয়োজকদের অন্যতম কঙ্কণ নাগ জানান, ১৯৯০ সাল থেকে চলে আসা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাম পরিবর্তনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, “আমরা চাই বছরের প্রথম দিন মানুষের মাঝে মঙ্গলের বার্তা ছড়িয়ে দিতে। সব বিভেদ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এই মঙ্গলের বারতাই আমাদের শক্তি।”
শোভাযাত্রা পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এই আয়োজনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকায় এটি ব্যাপকতা পেলেও তার দুই বছর আগে থেকেই যশোরে উদীচী এই শোভাযাত্রার সূচনা করেছিল। আজ সেই ঐতিহ্যই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে।
শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। এরপর তক্ষশীলা সংগঠনের শিল্পীদের ব্রতচারী নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন মকবুল আহমেদ এবং কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল খোরশেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। নাম নিয়ে নানা মহলে ভিন্নমত থাকলেও ধানমন্ডির এই আয়োজন প্রমাণ করেছে যে, বাঙালির চিরায়ত উৎসবের মূল সুর মঙ্গলের বারতাতেই নিহিত।
