নাটোরের বড়াইগ্রামে আপন শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেন বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন। অভিযুক্তের লালসার শিকার হয়ে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত এক পত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে পদ ও সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার স্ত্রী নিজের বাবার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে স্বামী ইকবাল হোসেন ও দেবর মাহবুব হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৭ সালে ইকবালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁদের পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
প্রায় এক বছর ধরে ইকবাল তাঁর নাবালিকা ছোট বোনকে ফুসলিয়ে আসছিল। গত ১০ জানুয়ারি রাতে রাজনৈতিক কাজের বাহানা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ইকবাল। সম্প্রতি বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে সে তার দুলাভাই দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ৩ এপ্রিল ওই কিশোরী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়। ওই রাতেই ইকবাল ও তার ভাই মাহবুব দলবল নিয়ে এসে কিশোরীকে পুনরায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুই ভাইকে গণপিটুনি দেয়। বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিশোরীর বাবা তাঁর দুই মেয়ের জীবন ধ্বংসকারী ইকবালের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছালাম জানিয়েছেন, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগীর বাবা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াসহ আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
