নিজস্ব প্রতিনিধি
পদোন্নতির দাবিতে প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬০ জন শিক্ষক। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দেন তাঁরা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, আশ্বাস আর প্রশাসনিক জটিলতায় ক্ষোভ এখন তীব্র আকার নিয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও কেবল সিন্ডিকেট সভার অনুমোদনের অভাবে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপকের পদোন্নয়ন (আপগ্রেডেশন) ঝুলে আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় সভায় নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ১৩টি বিভাগে ২৪ শিক্ষকের পদোন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে এসব নথি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইউজিসিতে পাঠানোর কথা থাকলেও বিষয়টি আর এগোয়নি।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ইউজিসির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হলেও পরবর্তী দুইটি সিন্ডিকেট সভার কোনোটিতেই পদোন্নয়নের বিষয়টি এজেন্ডায় তোলা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান অচলাবস্থার পেছনে প্রশাসনিক অদক্ষতার পাশাপাশি বহিরাগত প্রভাবও কাজ করছে। তাঁদের অভিযোগ, ইউনূস সরকারের সময়কার প্রভাব এবং বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ একটি বলয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেটের কারণেই বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, ইউজিসি প্রণীত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত অভিন্ন নীতিমালা এখনও সিন্ডিকেটে অনুমোদন পায়নি। নীতিমালা পাস হলে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির প্রস্তাব কমিশনে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৩ এপ্রিল ইউজিসিতে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে দিকনির্দেশনা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস আগে বোর্ড শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো সিন্ডিকেটে উঠছে না। এতে আমরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং মানসিকভাবে চাপে আছি।
শিক্ষকদের দুটি প্রধান দাবি হলো, সম্পন্ন হওয়া সিলেকশন বোর্ডের ভিত্তিতে ২৪ সহযোগী অধ্যাপকের পদোন্নয়ন পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সিন্ডিকেটে অনুমোদন। সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদ থেকে পদোন্নতির জন্য আবেদন করা ৩৬ শিক্ষকের ক্ষেত্রে দ্রুত পদোন্নতি বোর্ড শুরু করা।
শিক্ষকদের ভাষ্য, কেউ দুই বছর, কেউ এক বছর, আবার কেউ ছয় মাস ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। তাঁদের মতে, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাপ্য অধিকার। বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।
