নিজস্ব প্রতিনিধি
মেহেরপুরের মুজিবনগরে জামায়াত নেতার মালিকানাধীন একটি মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে বলাৎকারের (ধর্ষণ) অভিযোগে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কেদারগঞ্জ এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে ‘মুজিবনগর আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানা’য় এই পৈশাচিক ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নূর উদ্দিনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার শিকার শিশুদের উদ্ধার করে জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাহাজ উদ্দিন এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে তিন শিশুকে পাশবিক নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজিত জনতা যখন মাদ্রাসা ঘেরাও করে, তখন জামায়াত কর্মীরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসে। এতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় এবং স্থানীয়দের সাথে জামায়াত কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে জনতা মুজিবনগর থানা ঘেরাও করে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী এক শিশুর পিতা জানান, তার ১০ বছরের শিশু সন্তান ওই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পড়ত। গভীর রাতে অন্য এক অভিভাবকের ফোনে খবর পেয়ে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করেন। শিশুটি জানিয়েছে, আরবি শিক্ষক নূর উদ্দিন মাঝেমধ্যেই গভীর রাতে তাদের নিজের রুমে ডেকে নিয়ে এই ‘খারাপ কাজ’ করত। ঘটনার দিনও এক শিশুকে ৩-৪ বার নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও রাজনৈতিক ইমেজ বাঁচাতে জামায়াত নেতারা মাদ্রাসাটির সাথে জেলা আমিরের সম্পর্ক অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল খায়রুল বাশার দাবি করেন, জামায়াত কর্মীরা সেখানে গিয়েছিল ‘মিথ্যা প্রচারণা’ ঠেকাতে। তবে মাদ্রাসার শিক্ষক সোহেল রানা স্বীকার করেছেন যে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জেলা জামায়াত আমিরের বড় ভাই সেলিম হোসেন খাঁন।
মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক নূর উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
মেহেরপুরের সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রভাবে তা আড়াল করার চেষ্টা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। দোষী শিক্ষকের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত জামায়াত নেতাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
