সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী নেত্রী হিসেবে পরিচিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তাঁর স্বামী আবু বকর সিদ্দিকী (এবিসি)-র বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন অধিদপ্তরকে পুঁজি করে এই দম্পতি এক ‘দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছিলেন বলে অনুসন্ধান চালিয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ সাবেক মন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘হামিদ ফ্যাশন’-এর নির্বাহী পরিচালক।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-এর আগস্টের পর বিপুর শতকোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা ও বিদেশে অর্থ পাচারের মধ্যস্থতা করেছেন এই দম্পতি।
রাজধানীর গুলশানে নসরুল হামিদের মালিকানাধীন অন্তত ২০০ কোটি টাকার একটি প্লট দুদকের ক্রোক তালিকা থেকে রিজওয়ানার তদবিরে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মাদান অ্যাভিনিউতে বিপুর ৫ বিঘা জমি বিক্রির তৎপরতাও চালাচ্ছেন এবি সিদ্দিকী।
উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা পলিথিন নিষিদ্ধের ‘জেহাদ’ ঘোষণা করলেও ৩ মাস পরেই তা থমকে যায়। অভিযোগ উঠেছে, পলিথিন উৎপাদকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর পলিথিন বিরোধী অভিযান নাটকীয়ভাবে বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
একইভাবে ইটভাটার ছাড়পত্র ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এবি সিদ্দিকীর মাধ্যমে বড় অংকের ঘুষ বাণিজ্য চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদা পাথর কেলেঙ্কারি: সিলেটের ভোলাগঞ্জে পর্যটন কেন্দ্রের পাথর লুটের ঘটনায় সরাসরি মদত দেওয়ার অভিযোগ। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের চিঠির পরও সেনা মোতায়েনে বাধা দেওয়ার তথ্য মিলেছে।
নিয়োগ ও ছাড়পত্র বাণিজ্য: বন সংরক্ষক নিয়োগে ২০-২৫ কোটি টাকার লেনদেন এবং পরিবেশ ছাড়পত্র পেতে এবি সিদ্দিকীর সাথে ‘দরদাম’ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
বিনা টেন্ডারে কাজ: সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান।
সেন্টমার্টিন ষড়যন্ত্র: পর্যটন নিষিদ্ধ করার আড়ালে দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলার এবং বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রিজওয়ানা হাসান তাঁর বাবা যুদ্ধাপরাধী ও সাবেক রাজাকার সৈয়দ মহিবুল হাসানের কলঙ্কিত ইতিহাস আড়াল করে সুশীল সমাজে জায়গা করে নিয়েছেন।
যোগ্যতাহীনভাবে ‘বেলা’-র নির্বাহী পরিচালক হওয়া এবং পরবর্তীতে আসিফ নজরুলের সাথে ঘনিষ্ঠতা ও বিশেষ মহলের তদবিরে উপদেষ্টা হওয়ার পর তিনি ও তাঁর স্বামী সীমাহীন লুণ্ঠনে মেতে ওঠেন। রাজনৈতিক দলগুলো এখন এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
