দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি বোরো আবাদ এখন গভীর সংকটে। তেলের তীব্র হাহাকারে খাঁ খাঁ করছে ধানের জমি। রাজশাহীর পবা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেচযন্ত্র কাঁধে নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের দীর্ঘ লাইন এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে মাত্র ২০০ টাকার তেল, যা দিয়ে তিন ঘণ্টার বেশি মেশিন চালানো সম্ভব নয়। অথচ এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে প্রয়োজন অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা। ৬৫ বছর বয়সী কৃষক জমেলা বেগমের আর্তনাদ— “১০ দিন ধরে পানি দিতে পারিনি, জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।”
বর্তমানে ডিজেলের সরকারি দাম ১০১ টাকা হলেও খোলা বাজারে তা ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় চড়া দাম দিয়েও তেল মিলছে না। রাজশাহী অঞ্চলে ৩ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হলেও জ্বালানি সংকটে সেচ কার্যক্রম প্রায় স্থবির। কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, কুশি গঠন ও শীষ বের হওয়ার এই সময়ে সেচ না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে বিপর্যয় ঘটবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে জাতীয় খাদ্য মজুত ও চালের বাজারে।
জ্বালানি সংকটের এই আগুন শুধু কৃষি নয়, ছড়িয়ে পড়েছে পরিবহন ও শিল্প খাতেও। ডিজেলচালিত জেনারেটর চালাতে না পারায় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাল, ডাল ও সবজির দাম ইতোমধ্যে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য ও অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাসের বাণী শোনানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। তেলের পাম্পগুলোতে কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা আর হাহাকার প্রমাণ করছে যে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সেচ সংকটে বোরো আবাদ ব্যাহত হলে সামনে চালের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তীব্র তাপদাহ আর পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
