দেশের ৫৬টি জেলায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে হামের সংক্রমণ। সরকারি ও বেসরকারি তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যেই ৫০টিরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পরিস্থিতিকে ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অথচ দেশের এই ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের সময়ও সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ আর রাজনীতির দাবার ঘুঁটি সাজাতে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) কার্যত ভেঙে পড়েছিল।
গত দুই বছরে লক্ষ লক্ষ শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার চড়া মাশুল এখন দিতে হচ্ছে প্রাণ দিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দায়িত্বশীল সরকার থাকলে এই ঘাটতি তৈরি হতে দিত না। ইউনুস সরকারের জনস্বাস্থ্যের প্রতি এমন উদাসীনতার কারণেই আজ ঘরে ঘরে কান্নার রোল উঠেছে।
বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাস পার হলেও হাম মোকাবিলায় দৃশ্যমান কোনো জরুরি পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে দ্রুত টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিলেও জাতীয় পর্যায়ে কোনো জরুরি টিকাদান অভিযান বা ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিরবতা এবং মাঠ পর্যায়ে ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতা সাধারণ মানুষকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য হলো, মোট আক্রান্তের ৩৪ শতাংশই নয় মাসের কম বয়সী শিশু। রাষ্ট্র সময়মতো একটি টিকার ব্যবস্থা করতে না পারায় এই নিষ্পাপ প্রাণগুলো অকালে ঝরে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বিপর্যয় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল। জরুরি ভিত্তিতে মহামারি রোধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
