তথাকথিত‘ডেভিল হান্ট’ নামে দুই দফা অপারেশন চালিয়ে তৃণমূলের অন্তত ৫ লাখ মানুষকে জেলে ভরে রেখেছেন ইউনুস। জামিন পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। অথচ তারা সকলেই স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, কেউ ব্যবসায়ী কিংবা ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা কেউ বাদ যাননি তার দমন নিপীড়ন থেকে। তথাকথিত নাটক সাজিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সবাইকে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বানিয়ে জেলে আটকে রেখেছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ভাষ্যমতে তার প্রমান পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে যেমনটা হয়েছিল ইয়াহিয়া খান। জাতিসংঘ এসবকে মানবতাবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাঁর শাসনকালে নারীরা সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত সময় পার করেছে। জনপরিসরে নারীদের বিপদ আগের তুলনায় বেড়েছে, পোশাক নিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে, এসব করেছে সমাজের উগ্রপন্থিরা; এই শ্রেণির ব্যাপক উত্থান হয়েছে এই সময়ে; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ক্রমে বিভক্ত হতে থাকা দেশটাকে একত্র করে ইউনূসের সামনে জাতীয় হিরো বনে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। বহু বছর পরে আসা এ সুযোগ কাজে না লাগিয়ে পরিষ্কারভাবে দেশটাকে তিন ভাগে ভাগ করে ফেলেছেন তিনি।
গত দেড় বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে অপমানিত হতে হয়েছে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়েছে, নানান জায়গায় মা/র খেতে হয়েছে, দফায় দফায় ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভাঙা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে যতভাবে নিগৃহীত করা হয়েছে গত ৫৪ বছরে এমনটা আর ঘটেনি।
জুলাইয়ে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চেয়েছিল দেশের মানুষ। কিন্তু ইউনূস সরকারের গত দেড় বছরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়েও নিরপেক্ষ ভিসি নিয়োগ হয়নি। শিক্ষায় কোনো গতি আসেনি। ছেলেমেয়েদের ক্লাসরুমে ফেরানো যায়নি। সারা দেশে ছাত্রদের হাতে শিক্ষকরা নিগৃহীত হয়েছেন। বছরের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা নতুন বই পায়নি। বইয়ের মান ও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানো নিয়ে দুর্নীতির কথা আর না বলি! সংবাদমাধ্যম যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করেছে বলা হলেও ইউনূস সরকারের দেড় বছরের তথ্য-উপাত্ত সেটি বলছে না। প্রায় সব মিডিয়ায় নিজেদের পছন্দের মানুষ বসানো হয়েছে এ সময়ে। ৩০ জন সাংবাদিক এখনো জেলে। ৫২টি মিডিয়ায় নিজেদের পছন্দমতো লোক বসিয়েছে সরকার। হামলা চালিয়ে সেসব মিডিয়া দখলের ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান কার্যালয়ে হামলা এবং ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো পুড়িয়ে দেওয়ার দায় এবং সে সময় সরকারের নিষ্ক্রিয়তা মুহাম্মদ ইউনূসকে আজীবন পিছু তাড়া করবে যদি তার ভিতর বিন্দুমাত্র মনুষ্যত্ব থাকে।
ইউনূস সরকার খেলাধুলা নিয়েও জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার আরেকটি অধ্যায়। বিগত ১৮ মাস বাংলাদেশের জনগণ শুধুই প্রতারিত হয়েছে।
