মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালকে ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সরকারি দল বিএনপি। গত ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, রাজনৈতিক সংস্কারের নামে ড. ইউনূস জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং দলগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছেন। আর্থিক খাতে সংস্কারের নামে তিনি দেশের উদীয়মান বেসরকারি খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউনূসের শাসনামলে মব সন্ত্রাসের কারণে শত শত কলকারখানা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। বিনিয়োগবিমুখ মুদ্রানীতি ও উচ্চ সুদহারের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত আমানতকারীদের পথে বসিয়েছে। ড. ইউনূসের বিদায়লগ্নে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে, যা তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।
স্বাস্থ্য খাতেও ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে; ইউনূস সরকারের আমলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশে ‘হাম’ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে ৫৯.৬ শতাংশে নেমে আসা শিশুদের জীবনের সঙ্গে বড় প্রতারণা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ‘ইউনূস ম্যাজিক’ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমে যাওয়া তাঁর বৈদেশিক নীতির দুর্বলতা প্রকাশ করে। এমনকি লানিং সেন্টারে থাকা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ছিল এই সরকারের আমলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গত ১৮ মাসে মব সহিংসতায় অন্তত ৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং নদীগুলো অপরাধীদের ‘ডাম্পিং স্টেশনে’ পরিণত হয়েছে। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
বিদায়ের আগে তড়িঘড়ি করে ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনকে আরেকটি বড় জালিয়াতি বলা হচ্ছে। এর ৩৮ শতাংশ প্রকল্পই ইউনূসের নিজের জেলা চট্টগ্রামে বরাদ্দ দিয়ে তিনি আঞ্চলিক বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রীরা।
