বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর দেওয়া রায় ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গুরুতর আইনি আপত্তি উঠেছে। লন্ডনভিত্তিক খ্যাতনামা আইন প্রতিষ্ঠান ‘কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি’ শেখ হাসিনার পক্ষে এই বিচারকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে।
আইনজীবীদের প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিচার তাঁর অনুপস্থিতিতে (In Absentia) পরিচালনা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং আসামির যথাযথ আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল পুনর্গঠন এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, বিচারকদের অভিজ্ঞতার অভাব এবং বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে, যা একটি নিরপেক্ষ রায়ের পথে প্রধান বাধা।
প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রধান প্রসিকিউটরের বিরোধী দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বিচার চলাকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বিচারিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শেখ হাসিনাকে নিজের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
আইনি চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের অপরাধ বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত আইসিটি-র ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিচার করার এখতিয়ার নেই। আইন সংশোধন করে পেছনের তারিখ থেকে তা প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও এই বিচারকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি বর্তমান সরকারের কাছে শেখ হাসিনার রায় অবিলম্বে বাতিল এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার নিশ্চয়তা দাবি করেছে। আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ না করায় এই রায় বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ১৪ দিনের মধ্যে জবাব না পেলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাঁরা।
