সারাদেশে হামের সংক্রমণ এক বছরে ৭৫ গুণ বেড়ে যাওয়ায় নজিরবিহীন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৬৭৬ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৯ জন। সরকারিভাবে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা হলেও বিভিন্ন হাসপাতাল ও বিভাগীয় সূত্র থেকে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেই ১৫ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এরপর রাজশাহী (১৩৭ জন), চট্টগ্রাম (৯৩ জন) ও ময়মনসিংহে (৮০ জন) রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘ সময় বুস্টার ডোজ বন্ধ থাকা এবং শিশুদের অপুষ্টির কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সরকার আগামী জুন মাস থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের টিকার আওতায় আনা হবে।
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের পর বড় কোনো টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এস এম খালিদ মাহমুদ শাকিল বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ এক বছরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার মাশুল এখন দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার সময়মতো টিকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় এই মহামারি দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই (৪ মাস বয়সে) শিশুরা কেন আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক জোট ‘গ্যাভি’র সহায়তায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিকার ঘাটতি মেটাতে দ্রুততম সময়ে আরও সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং গুরুতর রোগীদের জন্য অতিরিক্ত ২০টি ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সিরিঞ্জ ও লজিস্টিক সহায়তার অভাব দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
