নিজস্ব প্রতিনিধি
সাম্প্রতিক সময়ে কোমল পানীয় ব্র্যান্ড ‘মোজো’-এর একটি প্রচারণামূলক কার্যক্রমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানিটি প্যালেস্টাইনের মানুষের সহায়তার কথা বলে জনমনে যে আবেগ তৈরি করেছিল, তার প্রতিফলন ঘটেনি।
মোজোর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল যে, প্রতিটি বোতল বিক্রির বিপরীতে তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (১ টাকা) প্যালেস্টাইনের জন্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে। এই প্রচারণার পর অনেকেই মানবিক কারণে পণ্যটি কিনেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, কোম্পানিটি তাদের ঘোষিত এই অর্থ সহায়তা প্যালেস্টাইনের জন্য পাঠায়নি বা এ সংক্রান্ত কোনো স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করেনি। সাধারণ ভোক্তারা একে ‘আবেগ নিয়ে ব্যবসা’ এবং ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছেন।
মোজো বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল নিয়ন্ত্রক ও কর্ণধার আকিজ গ্রুপ। সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন এই প্রতিষ্ঠানের মালিক। অভিযোগ রয়েছে, এই আকিজ গ্রুপ জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থান করে আসছে বছরের পর বছর। সেখানে অন্য ব্যক্তিরা অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন হলেও চাকুরি পায় না। কেন এই প্রতারণা এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা নিরীক্ষিত কোনো প্রতিবেদন জনসমক্ষে আসেনি।
ভোক্তা অধিকার সচেতন মহল মনে করছেন, কোনো কোম্পানি যখন সামাজিক দায়বদ্ধতার দোহাই দিয়ে প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইন চালায়, তখন সেই অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। প্যালেস্টাইনের মতো একটি স্পর্শকাতর ও মানবিক বিষয়কে পুঁজি করে ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন করলে তা চরম অনৈতিক কাজের শামিল।
ভুক্তভোগী ভোক্তারা দাবি জানিয়েছেন, কোম্পানিটি দ্রুত এই সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরুক। যদি অনুদান দেওয়া না হয়ে থাকে, তবে কেন দেওয়া হয়নি তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। অথবা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ প্যালেস্টাইনের সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা নিশ্চিত করতে হবে।
এই বিষয়ে মোজো বা আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।
