সারাদেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম (Measles)। রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ বেশ কিছু জেলায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বেসরকারি ও অসমর্থিত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় এরই মধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই; আক্রান্ত শিশুদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সংকটের নেপথ্যে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাই এই সংকটের প্রধান কারণ। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং টিকার বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত ডোজ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট সময় টিকাদান ব্যাহত হলে তার প্রভাব কয়েক মাস পর প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখা দেয়।
প্রশাসনিক ও সরবরাহ জটিলতা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সেক্টর প্রোগ্রামে প্রশাসনিক রদবদল ও আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারণে টিকা আমদানিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ইপিআইয়ের কিছু টিকার মজুত কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। তবে সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কখনোই টিকা কেনা বা টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো নির্দেশ দেয়নি। বরং বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সহায়তায় টিকার ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালের চিত্র সরেজমিনে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মা-বাবার উপচে পড়া ভিড়। চিকিৎসকরা বলছেন, হামের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দ্রুততম সময়ে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
