শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে রূপালি ইলিশের খোঁজে জাল ফেলার বদলে এখন নৌকা তীরে বেঁধে অলস সময় পার করছেন জেলেরা। গত কয়েকদিন ধরে জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় ১২ হাজার ডিজেলচালিত নৌকা ও ট্রলার মাছ ধরতে যেতে পারছে না। শুক্রবার থেকে কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত নগণ্য হওয়ায় কাটছে না এই অচলাবস্থা।
জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, শরীয়তপুরের প্রায় ৩৩ হাজার জেলে পদ্মার ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে অন্তত ১২ হাজার ছোট-বড় ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়মিত মাছ শিকারে ব্যবহৃত হয়। এসব নৌকায় প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে জেলেরা চাহিদার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ তেল পাচ্ছেন। অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ২-৩ লিটারের বেশি তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না, যা দিয়ে মাঝনদীতে গিয়ে জাল ফেলা প্রায় অসম্ভব।
সরেজমিনে নড়িয়ার সুরেশ্বর ও গোসাইরহাটের বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নৌকা পাড়ে নোঙর করা। জেলেরা নৌকাতেই অলস বসে জাল বুনছেন বা মেরামত করছেন। নড়িয়ার চরমোহন এলাকার প্রবীণ জেলে সিরাজুল ঢালী জানান, বাজারে তেলের চরম সংকট। যারা বিক্রি করছেন, তারা লিটারে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। প্রতিদিন ১৫ লিটার তেল প্রয়োজন হলেও ৫-৬ লিটারের বেশি মিলছে না। ফলে দীর্ঘক্ষণ মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। একই অবস্থা গোসাইরহাটের আবু সুফিয়ানেরও; তেল না পেয়ে গত তিনদিন ধরে তাঁর সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই কৃত্রিম সংকট ও আকাশচুম্বী দামের কারণে একদিকে যেমন মাছের বাজারে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার মৎস্যজীবী। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।
