মীর্জা ফখরুল বলেছে মাত্র এক মাসের মাঝে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ অনেকদূর এগিয়েছে। আসুন দেখা যাক এই এক মাসে কদ্দুর এগিয়েছে বাংলাদেশঃ
১। তারেক রহমানের হাত ধরে যুদ্ধাপরাধী জামাতে ইসলাম বিরোধী দলের আসনে বসেছে। দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজাহার সংসদের প্রথম সারিতে বসার সুযোগ পেয়েছে। সংসদে দন্ডপ্রাপ্ত সাত যুদ্ধাপরাধীর জন্য শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে।
২। সারাদেশে বিএনপি জামাতের লোকজন চাঁদাবাজির মচ্ছব শুরু করেছে। মাদ্রাসা, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ভিটা কিছুই বিএনপি-জামাতের চাঁদাবাজদেরর হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। চাঁদার দাবীতে ঘরে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়া চাঁদাবাজ ১৬ ঘন্টায় জামিন পেয়েছে।
৩। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোন উন্নতি নাই। সরকারের প্রথম দুই সপ্তাহে খুন হয়েছে ৪০ জন। চট্টগ্রামে ফিল্মি কায়দায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দিনে দুপুরে গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ছিনতাই কারীর কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পুলিশ কর্মকর্তা, দুদকের মহাপরিচালক, এমনকি ভিক্ষুকও। খোদ আইজিপির বাড়িতে চুরি হয়েছে।
৪। সড়কে চলছে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা। ঈদে যানবাহনের ভাড়া বিগত ২০ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক মন্ত্রী সড়কের চাঁদাবাজিকে সমঝোতা বলে বৈধতা দিয়েছে। ঈদের আগের সাত দিনে সড়ক দূর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছে।
৫। গ্রীষ্ম আসার আগেই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছে লোডশেডিং এ অভ্যস্ত হতে। খোদ মীর্জা ফখরুল বলেছে সামনে জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে। গ্যাসের অভাবে একের পর এক বন্ধ হয়েছে যাচ্ছে সার কারখানা সহ নানা ফ্যাক্টরি। আরেকটি কানসাট আসন্ন।
৬। বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে কয়েক কোটি টাকার আইএলএস তার চুরি হয়েছে। চুরি হয়েছে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আড়াই কোটি টাকার যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। লুট হয়েছে পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্পের ১৩ হাজার জিও ব্যাগ।
৭। এমপি সাহেবকে ৩০% পার্সেন্ট বুঝিয়ে না দেয়ায় সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে জেলে যেতে হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানকে। বিএনপি-জামাত ভাগাভাগি করে নিচ্ছে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া ভিজিএফ কার্ড। যাদের পাবার কথা ফিরে যাচ্ছে খালি হাতে।
৮। খোদ রাজধানী ঢাকার উত্তরায় মব সৃষ্টি পুলিশ আর্মির উপস্থিতিতেই গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে একটা শপিং কমপ্লেক্স। মুন্সিগঞ্জে ঘুমন্ত মানুষের উপর গুলি চালিয়ে আহত করা হয়েছে ১৬ জনকে। পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশের নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিএনপি নেতা। পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছে গৃহবধু।
৯। ইউএনওর অফিস থেকে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি নেতা। থানায় ঢুকে ওসি সহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধোর করেছে জামাতের নেতাকর্মীরা। টেকনাফে র্যাবের গাড়িতে হামলা করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা, নারায়গঞ্জে পিটিয়েছে ট্রাফিক পুলিশের এসআইকে। খুলনায় পুলিশ কর্মকর্তার মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খামাড়বাড়িতে চাঁদার দাবীতে কৃষি কর্মকর্তাকে প্রাননাশের হুমকি দিয়েছে ছাত্রদল নেতা। সিলেটে মুরগি চুরি করেছে ছাত্রদল নেতা।
১০। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধি কিছু খুঁজে পায়নি বাণিজ্যমন্ত্রী। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছে সেই বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অতি উৎপাদনশীলতা ও জোর পূর্বক শ্রমের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
১১। দেশের জ্বালানি তেলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এশিয়ার মাঝে বাংলাদেশের তেলের মজুদ সর্বনিম্ন। রাশিয়া থেকে তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে সরকার। এদিকে ভারতকে অনুরোধ করেছে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে। দিল্লী না ঢাকা শ্লোগান আপাতত হিমাগারে আছে।
১২। নারী নির্যাতন এবং ধর্ষন ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে। ৬ বছরের শিশু থেকে ৬০ বছরের বৃদ্ধা কেউই রেহাই পাচ্ছে না। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছে বাবা। ঈদেরর কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে নারী। নারায়নগঞ্জের জেলা বিএনপির আহবায়কের বিরুদ্ধে উঠেছে ধর্ষণের অভিযোগ।
১৩। সারাদেশে সকল সরকারি হাসপাতালে শিশুদের অত্যাবশকীয় টিকার ব্যাপক ঘাটতি চলছে। ১১ থেকে ২২ শে মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাম ও নিউমোনিয়ায় মারা গিয়েছে ৩৩ শিশু। সরকারি হাসপাতালসমূহে প্রতিদিন বাড়ছে অসুস্থ শিশুর সংখ্যা।
তাহলে কি ভাল কিছুই হয় নাই?
ক। আওয়ামীলীগ আমলে শুরু করা ফ্যামিলি কার্ডকে নতুন মোড়কে দেয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ আমলে চার লক্ষ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবি থেকে নামমাত্র মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারলেও নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার জনকে। সেই অর্থও নেয়া হয়েছে পেস্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তাদের বহুল প্রত্যাশিত পে-স্কেল হীমাগারে চলে গিয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় বলেছে না পোষালে চাকরি ছেড়ে দিতে।
খ। তারেক রহমান খাল কাটা কর্মসূচী শুরু করেছে। কোন ধরনের সমীক্ষা কিংবা যাচাই বাছাই ছাড়াই শুরু হয়েছে খালকাটা প্রকল্প। ৫ বছরের ২০ হাজার কিলোমিটার খালকাটার নাম করে অন্ততপক্ষে ৪০ হাজার কোটি টাকার লুটপাটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
গ। দৌলতদিয়ায় বাস ডুবিতে নিহত ২৩ জনের পরিবারকে লাশপ্রতি ২৫ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে সরকার। আহতদের দেয়া হবে ১৫ হাজার করে।
মাত্র এক মাসে এতো এতো অর্জন বিবেচনায় বলাই যায়, ফখরুল সাহেব ঠিকই বলেছেন। মাত্র একমাসে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে, তবে পিছনের দিকে। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুত টেক ব্যাক বাংলাদেশ অর্থাৎ বাংলাদেশকে ২০০১-২০০৬ সময়ে ফিরিয়ে নেয়ার দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে সরকার।
