আজ ২৬ মার্চ, বাঙালির শৃঙ্খলমুক্তির দিন। যখন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গোটা জাতি, তখন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত এক বিষাক্ত নাম হিসেবে ফিরে আসছে গোলাম আযম। একাত্তরের সেই ‘নরপিশাচ’, যে ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তানি জান্তাদের পদলেহন করে এই মাটিকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল। স্বাধীনতার এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাঙালির চেতনায় বারবার ভেসে উঠছে সেই অভিশপ্ত ‘শান্তি কমিটি’র কারিগরের নাম, যার ইশারায় পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছিল রাজাকার, আল-বদর আর আল-শামসের মতো খুনি বাহিনী।
ইতিহাসের নথি বলছে, একাত্তরের ২০ জুন লাহোরে বসে গোলাম আযম হুঙ্কার দিয়েছিল যে, পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র চলছে। যখন ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে গঙ্গা বইছিল, তখন এই ব্যক্তি ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এ বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, “পাকিস্তান ভেঙে গেলে ইসলাম থাকবে না।” পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৬ ডিসেম্বরের ঠিক আগ মুহূর্তে এই নরাধম লন্ডনে পালিয়ে গিয়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি’ গঠন করেছিল। বুদ্ধিজীবী হত্যা থেকে শুরু করে মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারী পাকিস্তানি হায়েনাদের প্রধান পথপ্রদর্শক হিসেবে তার নাম ইতিহাসের পাতায় কালো কালিতে লেখা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইতিহাসের সঠিক বিচার করেছে। যদিও বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে তার জন্য জমা আছে অনন্তকালের ঘৃণা। আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে তরুণ প্রজন্মের কাছে গোলাম আযম কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি ‘ভাইরাস’ হিসেবে পরিচিত, যা বাঙালির সত্তাকে মুছে দিতে চেয়েছিল। রাজাকারের উত্তরসূরিদের এই বাংলায় ঠাঁই না দেওয়ার অঙ্গীকারই আজ প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের প্রধান শপথ।
