১৯৭৪ সালে অলি আহমদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে তার ব্রিগেড কমান্ডার মীর শওকত আলী এই মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, তিনি (অলি) প্রথম কর্মকর্তা যিনি ঝুঁকি নিয়ে ২৫ মার্চ রাতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা হওয়ার খবরটি জানিয়েছিলেন।
অলির এই গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) ১৯৭৪ সালের ২০ অগাস্ট সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান জিয়াউর রহমানও স্বাক্ষর করেন, যার একটি অনুলিপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম হাতে পেয়েছে।
জিয়া পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে বিএনপি গঠনের পর মীর শওকত, অলি আহমদ দুজনই ওই দলে যোগ দেন। এই তিন জনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ছিলেন। মীর শওকত ও অলি দুজনই মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্বে ছিলেন জিয়ার সঙ্গে।
তবে মীর শওকত এক পর্যায়ে বিএনপি থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। গত বছর মৃত্যু হয়েছে তার।
১৯৭৪ সালে অলির এসিআরে এক কথা লিখলেও বিএনপি নেতা হিসেবে খালেদা সরকারের মন্ত্রী থাকাকালে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে মীর শওকত এক সময় বলেছিলেন, ২৫ মার্চ রাতে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়া।
তবে মীর শওকতের ওই বক্তব্যের সপক্ষে বিএনপি নেতাদের কখনো দাঁড়াতে দেখা যায়নি।
অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এক সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে থাকলেও স¤প্রতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছেন।
বীরবিক্রম খেতাব পাওয়া অলি আহমদের বার্ষিক গোপনীয় ওই প্রতিবেদনে তার সাংগঠনিক দক্ষতার ভূয়সি প্রশংসা করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা তুলে ধরে এতে বলা হয়, সঠিক নির্দেশনা পেলে তিনি সেনাবাহিনীকে সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিএনপির বিতর্ক সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে এই বিষয়ে উচ্চ আদালতেরও নির্দেশনা আসে।
২০০৯ সালে হাই কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক।
জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র”র তৃতীয় খণ্ড বাতিলও ঘোষণা করে আদালত।
তবে হাই কোর্টের ওই রায়ের পরও জিয়াকেই স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে আসছে বিএনপি।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
