মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম সনি, প্রধান সম্পাদক, The New York Editorial
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ২৫ মার্চ এক গভীর শোক ও বেদনায় ভরা দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিরীহ ও নিরস্ত্র বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে নির্মম যুদ্ধ শুরু করে। ইতিহাসে এটি কুখ্যাত Operation Searchlight নামে পরিচিত। এই রাতকে বাংলাদেশের মানুষ স্মরণ করে “কালরাত্রি” হিসেবে—একটি রাত, যখন ঢাকা শহরসহ সারা দেশে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিপুলভাবে Sheikh Mujibur Rahman এর নেতৃত্বাধীন Awami League-কে বিজয়ী করলেও পাকিস্তানের সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Yahya Khan এবং সামরিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ শুরু করে। বিশেষ করে Dhaka University এলাকা, ছাত্রাবাস, বুদ্ধিজীবী এলাকা এবং সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র এবং কর্মচারীদের হত্যা করা হয়। একই রাতে Rajaarbagh Police Lines এবং Pilkhana-এ অবস্থানরত বাঙালি পুলিশ ও ইপিআর সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
ঢাকার Old Dhaka-র বহু এলাকা—বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহল্লাগুলোতে অগ্নিসংযোগ ও গণহত্যা চালানো হয়। ঘুমন্ত মানুষদের বাড়ি থেকে টেনে বের করে হত্যা করা হয়, অসংখ্য ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
এই হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী Sheikh Mujibur Rahman-কে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাঙালিদের স্বাধীনতার সংগ্রামকে তীব্রতর করে তোলে।
২৫ মার্চের সেই বর্বর হামলার পরই শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসব্যাপী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে Bangladesh।
বাংলাদেশ সরকার ২৫ মার্চকে “গণহত্যা দিবস” হিসেবে পালন করে। এই দিনে দেশ ও বিদেশে বাঙালিরা শহীদদের স্মরণ করে এবং মানব ইতিহাসের এই নির্মম গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করে।
আজ ২৫ মার্চের এই শোকাবহ দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সেইসব নিরীহ মানুষ, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিকদের—যারা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগই বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা ও মর্যাদার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২৫ মার্চ শুধু একটি তারিখ নয়—এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা এবং একটি জাতির আত্মত্যাগের চিরস্মরণীয় প্রতীক।
