অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে আমেরিকার সঙ্গে সই হওয়া ‘ Agreement on Reciprocal Trade’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এবার রণক্ষেত্র বাংলাদেশের টেলিকমিউনিকেশন সেক্টর। অভিযোগ উঠেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অতি গোপনীয়তার সঙ্গে সই হওয়া এই চুক্তিতে দেশের ৫জি ও ৬জি প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ কার্যত ‘বন্ধক’ দেওয়া হয়েছে মার্কিন টেক জায়ান্টদের কাছে। ১২০০ মেগাহার্জের বিশাল স্পেকট্রাম ব্যান্ড লাইসেন্স-মুক্ত ঘোষণা করায় সরকারি কোষাগার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
প্রযুক্তিবিদদের দাবি, ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডের পুরো অংশটি ওয়াই-ফাই ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া একনায়কোচিত সিদ্ধান্ত। যেখানে এই ব্যান্ডটি মোবাইল অপারেটরদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল, সেখানে অ্যামাজন, গুগল বা মেটার মতো মার্কিন সংস্থাগুলোকে বিনা মাশুলে ব্যবসার রাস্তা করে দিয়েছেন ‘হোয়াইট হাউসের প্রিয়পাত্র’ ইউনূস। ফলে দেশীয় মোবাইল পরিষেবার মানোন্নয়ন থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য দেশের ব্যবসায়ী বা প্রযুক্তিবিদদের কাছে গোপন রাখা নিয়ে এখন ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ চুক্তির অভিযোগও উঠছে কোনও কোনও মহলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারত-বিদ্বেষী হাওয়া তুলে যারা সরব হয়েছিলেন, মার্কিন স্বার্থরক্ষার এই নজিরবিহীন চুক্তিতে তাঁরা এখন রহস্যজনক ভাবে নীরব। জুলাই আন্দোলনের কারিগররা ভারতের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী চুক্তির অভিযোগ তুললেও গত ১৮ মাসে তার প্রমাণ মেলেনি, অথচ মার্কিন চুক্তির প্রতিটি শর্ত এখন বুমেরাং হয়ে ফিরছে। মালয়েশিয়া বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলো যেখানে এই ধরনের রেসিপ্রোকাল চুক্তি বাতিল করেছে, সেখানে বাংলাদেশ কেন নিজের পায়ে কুড়ুল মারল, তা নিয়ে সংসদ অধিবেশনে সরব হওয়ার ডাক দিয়েছে সচেতন মহল।
