নিজস্ব প্রতিনিধি
পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে এক অভূতপূর্ব স্বস্তিতে। বৃষ্টিস্নাত বৃহস্পতিবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া টোলপ্লাজা এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও দ্রুত টোল আদায়ের ফলে চালক ও যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
শেখ হাসিনার দূরদর্শীতার কারণে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ এই সেবা পাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন নোবেল জয়ী ইউনূচ এই পদ্মাসেতু প্রকল্পের বিরোধীতা করলেও শেখ হাসিনার একক প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সফল হয়।
বেসরকারি চাকরিজীবী সালাউদ্দিন আহমেদ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাওয়া এলাকায় জানান, তার ধারণা ছিল পদ্মা সেতু এলাকায় বড় ধরনের যানজটে পড়বেন। কিন্তু এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে সেতু পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আশা করছি পুরো পথ এমন আরামদায়ক ও স্বস্তির হবে।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বরিশালের নেছারাবাদের বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তিনি বলেন, সকালে টোলপ্লাজায় কিছুটা ভিড় থাকলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই টোল দিয়ে পার হতে পেরেছি। পদ্মা সেতু হওয়ার পর যাতায়াতের সব ভোগান্তি শেষ হয়ে গেছে।
পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতু কর্তৃপক্ষ নিরলস কাজ করছে। বর্তমানে মাওয়া টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য ৭টি এবং মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক ৩টি কাউন্টার চালু রাখা হয়েছে। দ্রুত টোল আদায় সম্পন্ন হওয়ায় টোল প্লাজায় কোনো দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া পুরো এলাকা ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুর দুই প্রান্ত দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহন থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা টোল আদায় হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত দুই দিনে মোট ৮০ হাজার ৪০২টি যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করেছে।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল হায়দার জানান, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যের। লৌহজং উপজেলা প্রশাসন ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।
