বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে মোহাম্মদ রাজিবুল হাসানের নতুন গবেষণাগ্রন্থ ‘নজরুলের কবিতা ও গানে পৌরাণিক ব্যঞ্জনা’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিসম্ভারে পুরাণ ও মিথের সার্থক প্রয়োগ নিয়ে রচিত এই বইটি প্রকাশ করেছে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘প্রিয়মুখ’।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে মিথ বা পুরাণের ব্যবহার কেবল বৈচিত্র্যময় নয়, বরং তা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজিবুল হাসানের এই গ্রন্থে কবির কবিতায় ও গানে ব্যবহৃত হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক এবং মধ্যপ্রাচ্যীয় পুরাণের নানামুখী অনুষঙ্গগুলোকে অত্যন্ত সহজবোধ্য ও বিশ্লেষণাত্মক ঢঙে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে নজরুলের প্রথম পর্যায়ের কবিতাগুলোতে কেন এবং কীভাবে শিব, অর্জুন, ভীম, দুর্গা বা চণ্ডীর মতো চরিত্রগুলো শোষিত মানুষের দ্রোহের প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তা লেখক নিপুণভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
কবির বহুমুখী সৃষ্টির মহাসমুদ্র থেকে পৌরাণিক শব্দের প্রেক্ষাপট ও এর অন্তর্নিহিত কাহিনীগুলো সাধারণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লেখকের মূল লক্ষ্য।
বইটিতে দেখানো হয়েছে, কবি নজরুল কীভাবে ভারতীয় পুরাণের ‘নটরাজ শিব’কে ধ্বংস ও সৃষ্টির এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি ইসলামী ঐতিহ্যের পটভূমিতে ‘বিষের বাঁশী’ বা ‘অগ্নিবীণা’র মতো কাব্যগ্রন্থে ধর্মীয় বিশ্বাস ও বীরত্বগাথার যে সংমিশ্রণ তিনি ঘটিয়েছেন, তাও এই গবেষণার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে নজরুলের লড়াইয়ে মিথ কীভাবে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল, লেখক তা বর্তমান প্রজন্মের পাঠকের কাছে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন।
নজরুলের সাহিত্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন নিয়ে আগ্রহী পাঠকদের জন্য বইটি সংগ্রহে রাখার মতো একটি আকর গ্রন্থ হতে পারে।
বইটি প্রিয়মুখ প্রকাশনী (বাংলা বাজার) এবং রকমারি.কম থেকে সংগ্রহ করা যাবে ।
