চ্যানেল ১৪ প্রতিবেদন
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে তা সহিংস আকার ধারণ করে।
ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ওই সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং বিদেশি শক্তির পক্ষে কাজ করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা বৃহস্পতিবার কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘মাহারেবেহ’—অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অন্তত দুইজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকার এসব সহিংস ঘটনাকে ‘বিদেশি প্ররোচনায় সৃষ্ট দাঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সময়ের সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি হতে পারে, যাদের বড় অংশই বিক্ষোভকারী।
এদিকে বাংলাদেশেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনা নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে আন্দোলন চলাকালে শতাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসে অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
ফলে একদিকে ইরানে পুলিশ হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দণ্ড কার্যকর হলেও, অন্যদিকে বাংলাদেশে একই ধরনের ঘটনার বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
