নিজস্ব প্রতিনিধি
সারা দেশে যখন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ উৎসব চলছে। তখন দেশের একটি বিশাল অংশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মনে বইছে ‘ঘোর অমানিশা’। স্বদেশ, প্রবাস কিংবা অজ্ঞাত বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর কাছে এবারের ঈদও এসেছে চরম অনিশ্চয়তা আর দীর্ঘশ্বাস হয়ে।
বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে কয়েক লাখ নেতাকর্মী নিজ পরিবার ও স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন। ঈদের দিনে মায়ের হাতের রান্না কিংবা ছোট ভাই-বোনের জন্য নতুন পোশাক কেনার সাধারণ আনন্দটুকুও আজ তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বিশেষ করে ছাত্রলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী বর্তমানে ফেরারি জীবন যাপন করছেন। মানবিক সংকটের গভীরতা এতটাই যে, বাবা-মায়ের মৃত্যুকালেও অনেক সন্তান শেষবার দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলাকে শাসক দল তাদের ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করছেন।
এদিকে, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি কলমের খোঁচায় লাখ লাখ মানুষের জীবন থেকে হাসি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার স্লোগান দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসার পথ পরিষ্কার করেছিল, তারা মূলত ইতিহাসের নিকৃষ্টতম বৈষম্য তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এমনকি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন করা হয়েছে, তাতে দেশের অর্ধেক মানুষ তাদের পবিত্র ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা বিএনপিকেও নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সেক্টর কমান্ডারের দল হিসেবে নিজেদের দাবি করলেও, রাজাকারের সাথে হাত মেলানো এবং জামায়াতকে সংসদে জায়গা করে দেওয়াকে ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়েও জামায়াতের মতো সংগঠনের সাথে মামা ভাগিনার মত ভাগাভাগি করে সংসদে যাওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার শামিল।
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিকে জঙ্গি গোষ্ঠীর মদদে তৈরি হওয়া ‘অমানিশা’ হিসেবে দেখছেন নির্যাতিত আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, ক্ষমতার দম্ভে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার পরিণাম শুভ হবে না। লাখো মানুষের চোখের জল এবং এই অপশাসনের অবসান ঘটবেই। বাংলার সাধারণ মানুষ ব্যালট কিংবা রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমে এই সমস্ত অন্যায়ের ‘দাঁতভাঙ্গা জবাব’ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ঈদের খুশির আড়ালে এমন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক হাহাকার এক গুমোট পরিস্থিতির জানান দিচ্ছে।
