নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের সময় স্নাইপার টিম নিয়ে মাঠে থাকা এবং চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যদের স্নাইপার ট্রেনিং দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইক ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। গত ১৩ মার্চ কলকাতার একটি এলাকা থেকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেফতার করে। তার সাথে থাকা আরও ছয়জন ইউক্রেনীয় সহযোগীকেও দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছ
ম্যাথু ভ্যানডাইক নিজেকে তথ্যচিত্র নির্মাতা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং যুদ্ধ প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দিলেও এনআইএ-এর দাবি, তিনি মূলত একজন বিদ্রোহী ও জঙ্গি প্রশিক্ষক। একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আধুনিক যুদ্ধের কলাকৌশল এবং ড্রোন হামলার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশে গত জুলাই মাসের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সময় তিনি একটি স্নাইপার টিমের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিলেন।
এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভ্যানডাইক নন, তার এই বিশেষ প্রশিক্ষণ চক্রের আরও ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ বিমানবন্দর এবং বাকি তিনজনকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। আটককৃত ছয়জনই ইউক্রেনের নাগরিক এবং তারা ভ্যানডাইকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাতজন টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা আসামের গুয়াহাটি এবং পরবর্তীতে মিজোরাম সফর করেন। সেখান থেকে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। মিয়ানমারে অবস্থানকালে তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন চালনা, আধুনিক যুদ্ধকৌশল এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে পুনরায় ভারতে ফিরে আসার সময় গোয়েন্দা জালে ধরা পড়েন তারা।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এইচ রহমান মিলুসহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই চক্রটি দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে কারিগরি ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছিল। ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো বর্তমানে তাদের রিমান্ডে নিয়ে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করছে যাতে তাদের এই বিশাল নেটওয়ার্কের শেকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়।
