তৈমুর ফারুক তুষার, সাংবাদিক
ছবিতে যে মানুষগুলোকে দেখছেন এরা সবাই এখন কবরে। এই মানুষগুলো আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছিলেন। তাদেরকে এনজিও ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়। মানুষগুলোকে শারীরিক নির্যাতন, বিনাচিকিৎসায় হ-ত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন। অথচ সেই বাংলাদেশেই তাদেরকে আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, জামিন পাবার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্তত ৫২৬ জন মানুষ হ-ত্যার অভিযোগ এনজিও ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেব মতে, মব স-ন্ত্রা-সের মাধ্যমে ২০২৪ সালে ১২৮ জন, ২০২৫ সালে ১৬৬ জনকে হ-ত্যা করা হয়েছে। ইউনূসের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচার বহির্ভূতভাবে হ-ত্যা করেছে ৪৫ জনকে। ইউনূসের শাসনকালে জেলখানায় মা-রা গেছেন ১৮৭ জন। এর বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে বাংলাদেশে ঢালাও হ-ত্যা মামলাসহ নানা ধরনের বানোয়াট মামলা দায়েরের জোয়ার শুরু হয়। এসব মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তো বটে, দলটির সঙ্গে দূরবর্তী সম্পর্ক আছে এমন নিরাপরাধ মানুষদেরও গ্রেপ্তার করে কারাবন্দি করা হয়। ইউনূস সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই মানুষদের জামিন পাবার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
মানবাধিকারের জন্য কেঁদেকেটে বুক ভাসানো এনজিও ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ক্ষমতাকাল কেমন ছিল তা বোঝার জন্য তাদের আমলে নিহতদের তালিকাই যথেষ্ট। অনেকেই ইউনূস আমলে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ জানিয়ে থাকেন। সেকারনে ছবিসহ তালিকা প্রকাশের এই চেষ্টা। আজকে প্রথম পর্বে থাকছে ৪২ জনের ছবি ও নাম। নামের পাশে তারা কোন কারাগারে বন্দি ছিলেন তা যুক্ত করা হয়েছে।
