নিজস্ব প্রতিবেদ
দেশের ৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভিসি) পরিবর্তনের পর এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯টি প্রতিষ্ঠানে জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত ভিসিদের সরানোর পর এখন নজর জাবির দিকে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান উপাচার্য ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানেও তিনি দলটির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জাবি ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে, অধ্যাপক কামরুল আহসান ছাত্রজীবনের শুরুতে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, ছাত্রজীবনের শুরুতে কামরুল শিবিরের কর্মী ছিল বলে আমরা জানতে পারি। তখন সে ক্ষমা চেয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিল আর শিবির করবে না। আমরা তাকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অনুসারী মনে করতাম। কিন্তু সম্প্রতি জামায়াত-শিবিরের লবিংয়ে ভিসি হওয়ার পর আমাদের সেই ভুল ভেঙেছে। দীর্ঘ সময় তিনি আসলে ‘গুপ্ত রাজনীতি’র মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন।
সমালোচকদের দাবি, অধ্যাপক কামরুল আহসানের রাজনৈতিক অবস্থান সবসময়ই সুবিধাবাদী। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তিনি কখনও জামায়াত, আবার কখনও বিএনপির বন্দনায় মেতে ওঠেন। এমনকি অতি আবেগে তিনি দেড় বছরের আরাফাত রহমান কোকো এবং তিন বছরের তারেক রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। সম্প্রতি তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আনসারের হাতে ‘গলা ধাক্কা’ খেয়ে ফিরে আসার ঘটনাটিও ক্যাম্পাসে ব্যাপক চর্চিত হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অলিখিতভাবে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমান ভিসির পরোক্ষ মদদে সংগঠনটি পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে তিনি ছাত্রলীগের সনদ বাতিল ও সাধারণ ছাত্রদের বহিষ্কারের যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, সেটিকে অনেকেই দেশের মূলধারার আদর্শ বিরোধী এবং জামায়াতী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তবে এসব বিষয়ে উপাচার্যের দফতর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপাচার্যের এহেন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিক্ষকরাও।বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, জাবি ভিসির এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং জামায়াত-শিবির তোষণের বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড এবং বিশেষ করে জনাব তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন বলে তারা আশাবাদী।
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর মন্তব্য করছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদটি কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার হওয়া উচিত নয়। যখন কোনো দল ক্ষমতায় আসে, তারা তাদের আজ্ঞাবহ লোকদের বসাতে চায়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, শিক্ষক যখন রাজনীতির মোহে অন্ধ হয়ে যান, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং শিক্ষার পরিবেশ—দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে যারা পরিচয় গোপন করে বা ‘রং বদলে’ পদে বসেন, তাদের নৈতিক ভিত্তি সবসময়ই নড়বড়ে থাকে।
