মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রায় ৩ হাজার ১০০ সহিংসতার ঘটনার কথা ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তুলে ধরেছে ভারত সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এ তথ্য তুলে ধরেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, সম্পত্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনাগুলো এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব ঘটনার কোনো বিস্তারিত তালিকা বা সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সেখানে উপস্থাপন করা হয়নি।
পবিত্র মার্গেরিটা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ভারত সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে ধারাবাহিকভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারের প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে এবং সংখ্যালঘু হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনবে। সংখ্যালঘুসহ বাংলাদেশে সব নাগরিকের জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ওপরই বর্তায়।
এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনগুলো নিশ্চিত করে থাকে বলেও জানান তিনি। দ্রুত সহায়তার জন্য জরুরি সহায়তা নম্বর চালু রয়েছে, যা সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকে।
২০২৪ সালের আগস্টে এরপর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি বারবার সামনে আনছে ভারত সরকার।
তবে সে সময় দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার বরাবরই এ ধরনের অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে অস্বীকার করে এসেছে।
