আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ—বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান–এ লাখো মানুষের সমাবেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তার বজ্রকণ্ঠের আহ্বান—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের ৭ মার্চ পালিত হচ্ছে অনেকটাই নীরবে। অতীতে দিনটি ঘিরে রাষ্ট্রীয় আয়োজন, সভা-সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণের নানা কর্মসূচি থাকলেও এবার তেমন কোনো আয়োজন চোখে পড়েনি।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এলেও দিবসটি ঘিরে এখনো কোনো সরকারি আয়োজন দেখা যায়নি।
আগের বছরগুলোতে পত্রপত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, বুদ্ধিজীবীদের নিবন্ধ, বইমেলায় বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বইয়ের প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন থাকলেও এবার তা অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে দিবসটি এবার মূলত সীমিত পরিসরে স্মরণ করা হচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করলেও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দলের এক ফেসবুক পোস্টে সূর্যোদয়ের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সমাধিতে ফুল দেওয়ার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ৭ মার্চের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বাঙালির শোষণ-বঞ্চনার অবসান হয়নি। ভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা দেয়।
এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এ বছর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকলেও ঐতিহাসিক এই দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, স্মৃতিচারণ ও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
