নরসিংদীর সদর উপজেলায় ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (দিন উল্লেখ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত কিশোরী স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা একটি টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক। পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের দাবি, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে বাড়ি ফেরার পথে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবারটি মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে অভিযোগ জানায়। তবে পরিবারটির ভাষ্য, তারা কোনো বিচার পায়নি; বরং মীমাংসার কথা বলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। বুধবার রাত ৮টার দিকে কিশোরীর বাবা তাকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তাদের পথরোধ করে এবং কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সন্ধান পাননি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই বলেন, “সালিশের কথা বলে আমাদের অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। আমরা এলাকা ছাড়ার কথাও জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমার বোনকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরাসহ সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছেন। সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যায়নি; তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের বিচার চাওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
