লেখকঃহামজা রহমান অন্তর
এক. অবৈধ এই মাগরিবের ভোটে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের প্রায় ৮০ জন স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের মানুষ (পড়ুন অমানুষ) সংসদে যাচ্ছে। এমনকি যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাপ্রাপ্ত এটিএম আজহারুল ইসলামের মতো কসাই নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাচ্ছে! বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যদি রাজনীতিতে আবারও ভুল করে, অর্থাৎ এই প্রক্রিয়া চলমান থাকলে আগামী সংসদ এককভাবে জামায়াতের হতে পারে। যে দলটি স্বাধীনতা চাওয়ার অপরাধে নিজের দেশের ৩০ লাখ মানুষ হত্যায় সরাসরি জড়িত, এদেশের লাখ লাখ নারীদের ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনীতি অনেকটাই স্বাভাবিকিকরণ হয়ে যাবে এখন থেকে। আর এটাই ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশে গত ৫৫ বছরে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে জামায়াত ভবিষ্যতে ধ্বংস হবে তাদেরই পাতা এক মরণফাঁদে, সেটি হলো মব জাস্টিস ও সাধারণ ছাত্র-জনতা। পাশা উল্টে গেলে জামায়াত-শিবিরকে আর কষ্ট করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিতে হবে না, তার আগেই ‘আসল’ ছাত্র-জনতা শেষ বাঁশি বাজিয়ে ফেলবে।
দুই. বিএনপির এই নির্বাচনে নতুন করে অর্জনের কিছু নেই। তবে হারানোর আছে অনেক কিছু। লুতফোজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টোর মতো ফাঁসির আসামিরা সংসদে গিয়েছে। প্রয়াত আইভি রহমানের খুনিরা এমপি-মন্ত্রী ও এমনকি প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছে, এই দায় বিএনপিকে অবশ্যই ঐতিহাসিকভাবে নিতে হবে। এবারের মতো প্রায় সমসংখ্যক আসন নিয়ে ১৯৭৯ সালে ও ২০০১ সালে বিএনপি জোট সংসদে গিয়েছিলো। যদিও ২০২৬ সালের মতো ওই দুটি নির্বাচন ছিলো বিতর্কিত ও প্রায় একতরফা। সেনানিবাসের অস্ত্রের মুখে ও বিদেশি চক্রান্তের মাধ্যমে তারা এই দুটো ভোটে সংসদে গিয়েছিলো।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচন কারচুপি শুরুই করেছিলো বিএনপি, সেটা জেনারেল জিয়ার আমল থেকেই। খালেদা জিয়া মাগুরার উপ-নির্বাচন ও ১৯৯৬ সালের সাজানো ভোটের মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিলেন এবং ২০০১ সালে আবারও ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনাস্থায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এই পাতানো নির্বাচন থেকে এবার ক্ষমতায় এসে বিএনপির চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলা বাণিজ্য ও নেতাদের উদরপূর্তি ছাড়া বিশেষ কোনো লাভ নেই। আর এখন থেকে বিএনপি যতোটা ডানপন্থার দিকে ঝুঁকবে, দলটি ততোটাই জামায়াতে বিলীন হবে। গুপ্তরা শাসন করবে তখন বিএনপির রাজনীতি। বিএনপিকে বাঁচতে হলে মুক্তিযুদ্ধকে আঁকড়ে ধরা ছাড়া উপায় খোলা নেই। এটা এন্টিবায়োটিক। জামায়াতের মতো মোনাফেকি (মুখে এক অন্তরে আরেক) করলে ধ্বংস নিশ্চিত।
তিন. অবৈধ এই নির্বাচনে কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে মনে হলেও দলটির সুযোগ আছে দারুণভাবে কামব্যাক করার। যদি আওয়ামী লীগ দলে তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীতে সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজায়, তবে ক্ষমতায় ফিরতে আওয়ামী লীগের ৫ বছরও অপেক্ষা করতে হবে না। দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই সকল ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের ফেরার অপেক্ষায় আছে। ইউনূসের পরিচালনায় জামায়াত-বিএনপি প্রযোজিত একতরফা মাগরিবের ভোটের কারণে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের উপর রাতের ভোট ও একতরফা ভোটের বদনাম ঘুচে গিয়েছে। এখন থেকে আওয়ামী লীগকে কেউ সাজানো ভোটের অপবাদ দিতে পারবে না। এগুলো সবই বিএনপি শুরু করেছিলো, সর্বশেষ টাটকা উদাহরণও বিএনপি-জামায়াতের।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র ও সংবিধান। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ সবসময়ই বাংলাদেশের সংবিধানের ইতিবাচক ফলাফল ঘরে তুলেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে অনন্য-অসাধারণ সংবিধানগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশের ‘বাহাত্তরের সংবিধান’। বিএনপি-জামায়াত যদি সংবিধানে হাত দেয়, তারা একটি ঘুমন্ত দৈত্যকে স্রেফ জাগিয়ে দেবে। তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের শাসনভার তুলে নেবে এবং দেশবিরোধীদের গণফাঁসিতে চড়াতে পারবে, সেখানে সংবিধান থাকুক আর নাই থাকুক!
