নিজস্ব প্রতিবেদক
নোবেলবিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমদানিকৃত ’মব সংস্কৃতি’তেই ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে পরলেন ইউনূস আমলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ।
বাসস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ গতকাল রাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন।
তারপর মাহবুব মোর্শেদ ফেসবুক পোস্ট করে অভিযোগ করেন, “চুক্তি বাতিল ও অপসারণের নানা স্বীকৃত পদ্ধতি আছে। সেসব দিকে না গিয়ে অফিসে মব সৃষ্টি করে, হামলা করে, তালা দিয়ে সরাতে চাইছেন কেন?”
এখন প্রশ্ন উঠছে অফিসে কী ফিরতে পারবেন?
সূত্রমতে, সকাল থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর নেতা-কর্মীরা বাসস ভবনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা অফিসের প্রবেশপথ অবরোধ করে ‘দখল’-এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন এবং মাহবুব মোর্শেদের অপসারণ দাবি করে স্লোগান দেন।
অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, সহকর্মীদের প্রতি অশোভন আচরণ ও অযোগ্যতার। তবে বিক্ষোভের চাপে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে অফিস ত্যাগ করেন।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ডিআরইউ মানববন্ধন করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল। সেখানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনসহ নেতারা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ দাবি করেন।
বিএফইউজে ও ডিইউজেও যৌথ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। গত বছর মার্চ থেকেই এসব সংগঠন তাঁকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ দাবি করে আসছিল।
মাহবুব মোর্শেদ ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাসস-এর সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ পান, যা অনেকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেখেন। তবে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল।এ ঘটনায় বাসসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ নিশ্চিত করেনি, তবে সূত্র বলছে তিনি আর দায়িত্বে ফিরবেন না। এ ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-অপসারণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
