বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সীমান্তবর্তী একাধিক আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও পাল্টা ব্যাখ্যার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
নির্বাচনী ফলাফলের মানচিত্রে দেখা যায়, সাতক্ষীরা থেকে শুরু করে মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা বহু আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়েছে। সীমান্তের কিছুটা ভেতরের খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনাতেও তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
এই অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আংশিক আসামের সংলগ্ন যা স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নজর কাড়ছে।
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে তুলেছে। দলের মুখপাত্রদের বক্তব্য সীমান্ত এলাকায় কট্টরপন্থী শক্তির উত্থান পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতারের ঘাটতি ও প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগে অনুপ্রবেশ বাড়তে পারে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রশ্নও তারা সামনে আনছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বলছে, ধর্মীয় মেরুকরণই বিজেপির প্রধান কৌশল। দলটির মুখপাত্রদের দাবি বাংলাদেশের নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলকে বিকৃতভাবে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গে ভোট রাজনীতি করার চেষ্টা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে বিজয়ী শক্তিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তৃণমূল নেতাদের মতে, হিন্দু ও ইসলামি মৌলবাদ দুই চরমপন্থাই একে অপরকে শক্তি জোগায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জামায়াতের প্রভাব নতুন নয়; দেশভাগের পর থেকেই এসব এলাকায় সংগঠনগত উপস্থিতি ছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা তৈরির চেষ্টা হবে এটা স্বাভাবিক।
বিশ্লেষক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যের মতে, বিজেপি সীমান্ত নিরাপত্তা ও ধর্মীয় মেরুকরণের ইস্যু জোরালো করতে পারে। আবার তৃণমূল চাইবে বাংলাদেশের সামগ্রিক ফলাফলকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয়’ হিসেবে তুলে ধরতে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাংলাদেশ বরাবরই একটি নির্বাচনি উপাদান। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সীমান্তের ওপারের ফলাফল কীভাবে এপারের রাজনৈতিক ভাষ্যে রূপান্তরিত হয় তা নির্ভর করবে দলগুলোর প্রচার কৌশল ও ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
