নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোটাবিরোধী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আবু সাঈদের মৃত্যুর পরে ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও ইসলামী ছাত্রশিবির কমিটি ঘোষণা করেছে। ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটিতে ছাত্রত্ব নেই সভাপতি-সম্পাদকের।
ঘোষিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং একই সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন। অধিকাংশ বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ফলে নবঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও শিবির লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করে না।”
নিয়মিত শিক্ষার্থী না হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, তাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তারা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স (ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট)-এ এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। ভর্তি কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্স (ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট)-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. প্রসন্নজিৎ সরকার বলেন, “সম্প্রতি এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং এখন আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।”
রবিবার রাত ১০টার দিকে ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।
সমাবেশে শাখা সভাপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতির স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত সুমন সরকারকে শাখা সভাপতি ঘোষণা করা হয় এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম তাকে সাংবিধানিক শপথ পাঠ করান।
পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুর রাকিব মুরাদকে শাখা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
