লেখকঃ ড. মাসুম বিল্লাহ
এটা একটা সিরিয়াস ব্যাপার। আই টেল ইউ।
অন্তত বিএনপির সিনিয়র পলিটিশিয়ানদের তো এটা বোঝার কথা। নবনির্বাচিত এমপিদের দু’টি শপথ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়া মানে সংবিধানের সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করা। অর্থাৎ সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নেওয়া।
এর পরপরই তাঁরা যদি সংস্কার পরিষদ হিসেবে শপথ নেন এর মানে হবে, যে সংবিধান তাঁরা সমুন্নত করার শপথ নিলেন, সেই সংবিধান এখনই আবার ভেঙে ফেলার শপথ নিলেন। এই দ্বিতীয় শপথ নেবার সাথে সাথে আগের শপথটি অকেজো হয়ে যাবে। এবং তাঁরা আর এমপি থাকবেন না। এবং সংবিধানে হাত দেবার অধিকার তাঁদের থাকবে না।
একজন আইনের শিক্ষক হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে এটি সতর্ক করে দিচ্ছি—এতে বাঙলাদেশ চরম সাংবিধানিক সংকটে পড়বে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অসাংবিধানিক। গণভোট অসাংবিধানিক। বিএনপিসহ নির্বাচিত রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল কাজ হবে সংবিধানে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে শপথ গ্রহণ করা। গণভোটের ব্যাপারে আইনি কোন কনফিউশন হলে উচিত হবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের কনভেনশন ডাকা অথবা অন্তত উচ্চ আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ হতে দেওয়া এবং উন্মুক্ত শুনানির ব্যবস্থা করা। বেআইনিভাবে কোন সংসদ গঠিত হতে পারেনা।
আমি এখনো মনে করি, স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী বা ডেপুটি স্পিকারকে দিয়ে শপথ পরিচালনা না করলে সেটা সংবিধানের লঙ্ঘন হবে। এমনকি সিইসিকে দিয়ে করালেও সেটা মোস্ট প্রবাবলি অসাংবিধানিক হবে। কেননা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের আনএভেইলএবিলিটি বা অসমর্থতা বা তাঁদের কর্তৃক কোনো প্রতিনিধি নির্বাচনে অসমর্থতার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত বা প্রতীয়মান নয়। বেআইনি শপথ কোন আইনগত ক্ষমতা বা দায়িত্ব হস্তান্তর করেনা।
রাজনৈতিক দলগুলোর বিশেষ করে বিএনপি’র উচিত হবে আলী রীয়াজ নামের এই মূর্খকে আর বাঙলাদেশ সংবিধান বিষয়ে কোনো কথা বলতে সুযোগ না দেওয়া।
আপহোল্ড দ্য কনস্টিটিউশন।
