নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় যে নাম—তিনি খলিলুর রহমান। টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি, আর তাতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় খলিলকে জায়গা দিয়েছেন। অথচ একসময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে খলিলকে অপসারণের দাবিও তুলেছিল বিএনপি।
খলিলুর রহমান ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস–এর অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। লন্ডনে ইউনূস-তারেক বৈঠকে তার সক্রিয় উপস্থিতি নজর কাড়ে। সেই বৈঠকের পরই নির্বাচন নিয়ে সময়সূচির ইঙ্গিত আসে।
সমালোচকরা বলছেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক—রক্ষায় খলিলকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তারেক রহমান। আবার বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্কের সঙ্গেও কি কোনো যোগ আছে?
জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর নেতারা অভিযোগ করছেন, পরিকল্পিতভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খলিলকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও লন্ডন বৈঠককে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন।
খলিলের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে আগেও বিতর্ক ছিল। তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতিসংঘে কাজ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার ভূমিকা সব মিলিয়ে তার অতীত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।
কেউ বলছেন তিনি আন্তর্জাতিক লবির সঙ্গে সংযোগের সেতু, কেউ বলছেন তার ভূমিকা রহস্যময়। সামাজিক মাধ্যমে সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সমালোচনার মাঝেও সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে পররাষ্ট্র নীতিতে অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগসম্পন্ন কাউকেই দায়িত্বে আনা হয়েছে। খলিলকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হলেও আপাতত তিনি বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
