দেড় বছরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর মঙ্গলবার শপথ নিলেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস–এর অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান। বঙ্গভবনের বদলে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ এটিও ছিল নজরকাড়া দিক।
প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মোট সদস্য ৫০ জন । ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাখা হয়েছে ১০ জন উপদেষ্টা।
সবচেয়ে বড় চমক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বিএনপির সদস্য বা এমপি না হয়েও টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন খলিলুর রহমান, যিনি আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে আছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হয়েছেন হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা
২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা ছাড়ার প্রায় দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর আগে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে চারদলীয় জোট সরকার পরিচালনা করেছিল দলটি।
এবার বিরোধী আসনে বসছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শুরুতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আপত্তি থাকলেও পরে তারা দুই ধরনের শপথই নেন।
সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার শপথ পড়ানোর কথা থাকলেও এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। স্বতন্ত্র সাংসদ রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সব মিলিয়ে, তরুণ ও নতুন মুখের প্রাধান্যে বড় আকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো দেশের রাজনীতিতে।
