নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া দলটির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোরালো আলোচনা ও হিসাব–নিকাশ।
দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু কার্যকর একটি মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ত্যাগ, অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক অবদান এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা—এই চার মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নতুন সরকারের তিনটি মূল অগ্রাধিকার হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দুর্নীতি নির্মূল করা। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অনেকেই আলোচনায় আছেন, চূড়ান্ত করবেন দলীয় প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন এবং তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান।
দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনে বিজয়ের পেছনে তাঁর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কৌশলই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
শপথ কবে?
বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন।
সংবিধান অনুযায়ী, শপথের পরই সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য নাম
দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য কিছু নাম ঘুরে ফিরে আসছে:
রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনায়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
স্পিকার: আব্দুল মঈন খান
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়: মির্জা আব্বাস
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়: সালাহউদ্দিন আহমদ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
শিক্ষা মন্ত্রণালয়: এহসানুল হক মিলন
এ ছাড়া চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আইনজীবী ফজলুর রহমান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে জল্পনা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, এ বিষয়েও আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক নেতা হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন শামা ওবায়েদ এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
টেকনোক্র্যাট ও নতুন মুখ
দলটি বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বলেও জানা গেছে। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন— নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।
আলোচনায় রয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হিসেবে রুহুল কবির রিজভীও।
তরুণ নেতৃত্ব থেকেও কয়েকজন নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন।
জোটসঙ্গীদের অংশগ্রহণ
নির্বাচনের আগে ঘোষিত ‘জাতীয় সরকার’ ধারণার অংশ হিসেবে শরিক দলগুলোর নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। গতকাল গুলশান চেয়ারপারসন কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুও এমন ধারনা দেন।
জোট শরিকদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন— আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর, জোনায়েদ সাকি, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ।
ববি হাজ্জাজ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পেতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন আছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতামূলক কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জাইমা রহমান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি দলের উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নামও শোনা যাচ্ছে।
