আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানকে অবজ্ঞা করেছে। ভোটের আগের দিন থেকে ভোটকেন্দ্র দখল, ভোট কেনাবেচা, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষরহীনতার অভিযোগ তুলে তিনি এই নির্বাচনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো বলে বর্ণনা করেন।
শেখ হাসিনা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সারাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নগণ্য ছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকাল ১১টায় ভোটগ্রহণের হার মাত্র ১৪.৯৬%। এটি প্রমাণ করে যে জনগণ আওয়ামী লীগবিহীন এই ভোট বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ভোট চললেও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত হার প্রকাশ পায়নি, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
শেখ হাসিনার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর লাগাতার হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি চলেছে। তবুও সকলে ভয় উপেক্ষা করে এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি জনগণের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিচয় দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস মিললেও আওয়ামী লীগের দাবি, এই ফলাফল জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয়।
শেখ হাসিনা স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, এই নির্বাচন বাতিল করতে হবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ, সকল রাজবন্দীর মুক্তি, আওয়ামী লীগের উপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই দাবিগুলো পূরণ না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটও উল্লেখযোগ্য।
