প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩৮.৩৭ শতাংশ ব্যালট ফেরত পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৩ সালের তথ্যে বিশ্বে সওয়া কোটি বাংলাদেশী কর্মরত। বিএমইটি বলছে ১ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ১ কোটি ৫৫ লাখ উল্লেখ করেছেন। প্রধান উপদেশ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন দেড় কোটির কাছাকাছি।
এই বিশাল প্রবাসী জনসংখ্যার তুলনায় নির্বাচন কমিশনের তথ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ৫ জানুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন করেছে মাত্র ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬ জনের ভোট ফেরত এসেছে। সে হিসেবে নিবন্ধিতদের ৩৮.৩৭ শতাংশ ভোট দিয়েছে, ৬১.৬৩ শতাংশ নিবন্ধিত হলেও ফেরত পাঠায়নি। প্রকৃত প্রবাসী ভোটারের তুলনায় ৯৫.০৯ শতাংশ সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাজ্যে ৩২ হাজার ২৯৯ নিবন্ধিতের মধ্যে ২১ হাজার ৬৪২ জন ভোট দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ হাজার ৭৯৯ নিবন্ধিতের ১৭ হাজার ৩২১ জন (৫৬ শতাংশ) ভোট দিয়েছে। ফিনল্যান্ডে ২ হাজার ৩৪৮ নিবন্ধিতের ১ হাজার ৯০৪ জন ভোট দিয়েছে।
প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাজ্যের আশফাক বিন মুস্তফা নিবন্ধন করেও ব্যালট ফেরত পাঠায়নি, মধ্যপ্রাচ্যে কারসাজির ভয়। ফিনল্যান্ডের সানিয়া সিরাজ নিবন্ধনই করেনি, বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে দলের অভাব। সুইডেনের আনিসুর রহমান স্পষ্ট বর্জন ঘোষণা করেছেন। আমেরিকার শৈবাল ভৌমিক বলেন ব্যালটই পাননি, সন্দেহ আছে গণনায়।
কারাগারেও একই চিত্র। সারা দেশে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে নিবন্ধন করেছে ৬ হাজার ৩১৩ জন। ত্রুটিপূর্ণ বাদ দিয়ে বৈধ ৫ হাজার ৯৪০ জন। শনিবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছে (৮৬.৮৮ শতাংশ নিবন্ধিত), মোট বন্দির ৯৩ শতাংশ ভোট বর্জন। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদশক মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ৭৫টি কারাগারে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ভোটগ্রহণ।
৩ তারিখে ১ হাজার ৫২১, ৪ তারিখে ৯৮৮, ৫ তারিখে ১ হাজার ১৩৮, ৬ তারিখে ৪২০, শনিবার ৪৭১ জন ভোট দিয়েছে। রোববারও সময় বাড়ানো হয়েছে। এনআইডি না থাকা ও অন্য কারণে নিবন্ধন কম। আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বলছেন অনেক বন্দি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, নৌকা প্রতীক না থাকায় ভোট দেননি। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইউনূস সরকারে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বন্ধ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রবাসী ও কারাগার ভোটারদের নিম্ন সাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ইসির তথ্য রোববার মধ্যরাতের, চূড়ান্ত হিসাব বাকি। প্রবাসী ও বন্দিদের বর্জনের কারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
