আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান খবর ‘ভোটের মাঠে রোহিঙ্গা ও জঙ্গি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে অবৈধ ভোটার ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। কক্সবাজার জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার সাড়ে ১৮ লাখ।
এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি ভোটার রোহিঙ্গা বলে বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে। অভিযোগ, ১৯৮০ সাল থেকে অসাধু কর্মকর্তাদের সাহায্যে মোটা অর্থের বিনিময়ে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। বর্তমানে পুরো কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে রয়েছে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা তাদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উদ্বেগজনক তথ্য মিলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সেখানে নতুন করে একটি জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকায় কয়েকজনকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছে জঙ্গিরা।
গত সপ্তাহে যশোরে এক সদস্যের বাড়ি থেকে ১০টি গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো নির্বাচনী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কক্সবাজারে অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিতকরণ ও যাচাইয়ে তৎপর হয়েছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি নেটওয়ার্ক দমনের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক প্রার্থীদের উপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে তারা অবৈধ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ না করেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ভোটারদের তালিকা পরীক্ষা করে অবৈধ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কিন্তু এখনো অনেকগুলো নাম রয়ে গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি কার্যক্রম নির্বাচনী সহিংসতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র সতর্ক করেছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনাগুলো নির্বাচন কমিশনের সামনে নতুন দায়িত্ব এনে দিয়েছে এবং ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় জনগণও এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তারা পুরোপুরি তৎপর এবং নির্বাচন সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু রোহিঙ্গা ভোটার ও জঙ্গি তৎপরতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
