কারাগারের চার দেওয়ালে মৃত্যুর দীর্ঘ মিছিলে যুক্ত হয়েছেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। গতকাল রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় বছরে কারাগারে ১১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর পরিসংখ্যানে নিহত সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। ২০২৪-এ ৬৫ জন এবং ২০২৫-এর নভেম্বর পর্যন্ত ৯৫ জন মারা গেছেন।
নিহতদের পরিবার ও আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে চলেছেন, এসব মৃত্যু স্বাভাবিক নয়—বরং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও ড. আলী রীয়াজের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সুক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ। কারাগারে আটক নেতা-কর্মীদের চিকিৎসা-আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবি। কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুকে ‘বার্ধক্যজনিত’ বা ‘হৃদরোগ’ দেখালেও পরিবাররা তা খারিজ করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলছেন।
চট্টগ্রামের ২৪ নং উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ৮১ বছরের আব্দুর রহমান মিয়া ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। পরিবার জানায়, কারাগারে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, পরিবারের ওষুধও পৌঁছায়নি। একইভাবে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে মারা যান।
শুধু জ্যেষ্ঠ নেতা নয়, তরুণ-মধ্যবয়সীদের তালিকায়ও অনেকে। ২০২৪-এর নভেম্বরে বগুড়া কারাগারে ৬ জন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়। এক নিহতের সন্তান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন না, মৃত্যুর আগে সুস্থ ছিলেন। গাইবান্ধায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অর্থ সম্পাদক তারিক রিফাত (৫৫) কারাগারে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টায় মারা যান। গাজীপুর কাশিমপুরে রিমান্ডে নেওয়ার সময় মারা যান বাড্ডা থানা যুব-ক্রীড়া সম্পাদক ওয়াসিকুর রহমান বাবু (৪৩)—পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ করে।
আইনানুযায়ী কাস্টোডিয়াল ডেথ তদন্তযোগ্য, কিন্তু কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। পরিবাররা বলছেন, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ঘটনা ঘটছে এবং তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে। ফলে কারাগারে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। আসক-এর পরিসংখ্যান এই হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।
