নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশি কোম্পানির কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পণ্য খালাস, জাহাজ চলাচল ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিকদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক হুমকির অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকদের দাবি, আন্দোলনে সম্পৃক্ত ১৮৩ জন কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় বন্দরের কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে এবং যেকোনো সময় রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।
এনসিটি সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়করা জানিয়েছেন, তাদের চার দফা মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—
এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের অপসারণ, আন্দোলনে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের অধিকার ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংগ্রাম পরিষদের এক নেতা বলেন,
“চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রক্রিয়া ভেঙে দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট হলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টন পণ্য পরিচালিত হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর প্রভাব হবে ব্যাপক।
উল্লেখ্য, সরকার এর আগে এনসিটির অপারেশন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে কয়েকটি সংগঠন হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। রিটে অভিযোগ করা হয়, কোনো দরপত্র আহ্বান ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় স্থগিত রাখেন।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা চালানো হচ্ছে।
তবে সংগ্রাম পরিষদের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
