আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে ভোটারদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সর্বশেষ নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশ, হাসপাতাল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে সারা দেশে প্রতিদিনই খুনের ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গত ১৩ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৪৬ জন।
তথ্য বলছে, সহিংসতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রার্থী আধিপত্য বিস্তার, দলীয় পেশিশক্তির ব্যবহার, প্রতিশোধপরায়ণতা, সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাধা দেওয়া, পোস্টার ছেঁড়া এবং কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, তবে মাঠে নামার আগেই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে ১৪৪টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভীতি প্রদর্শন, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Support Society (এইচআরএসএস) জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক দলভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–সহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ না দিয়ে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ধারাবাহিকতা এখনো থামেনি। অপরাধবিদদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা কেবল নির্বাচনী পরিবেশ নয়, সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
