নিজস্ব প্রতিনিধি : যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ায় ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার (অটোপাইলট) মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তাঁর টেসলা মডেল-৩ গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। এরপর গাড়িটি অত্যন্ত উচ্চগতিতে বাড়িটির ইটের দেয়াল ভেঙে সরাসরি ভেতরে ঢুকে পড়ে।
দুর্ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী, যিনি গাড়ির সরাসরি আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হন। পরে দ্রুত তাঁকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে নিখুঁতভাবে যাচাই করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেয়াল ধসে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে পুরো কক্ষটি তছনছ করে দিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টেসলার চালক মাইকেল বাটলার নিজেও এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার সময় তাঁর মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি বর্তমানে তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করছেন।
এখন পর্যন্ত চালকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক একটি তদন্ত শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার কিছু মারাত্মক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে চালকের নিজস্ব সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা ব্ল্যাকবক্স ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য চূড়ান্তভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
