আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “নৌকা নেই, ভোট নেই।”
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিডিও সংযোগে যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। অন্তর্বর্তী সরকারকে তিনি ‘অবৈধ’ ও ‘পুতুল সরকার’ বলেও উল্লেখ করেন।
আরাফাতের অভিযোগ, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিকে নিষিদ্ধ রেখে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দলকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচনের বৈধতা থাকতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, প্রধান বিরোধী শক্তিকে আইনি ও শারীরিকভাবে দমন করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি নিজের বর্তমান অবস্থাকে ‘নির্বাসিত গণতন্ত্র’ বলে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, দেশে অরাজকতা বিরাজ করছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলছে। তিনি বর্তমান প্রশাসনকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন।
অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা বা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আনতে পারবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের এই বর্জন কৌশল ভোটের বৈধতা ও অংশগ্রহণের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও আলোচনা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
